অস্পষ্ট উচ্চারণ ও অন্যান্য কবিতা
রিক্তা রিচি
তুমি—অস্পষ্ট উচ্চারণ
একটা হারানো মুখ
বারংবার খুঁজে ফিরি
ছায়াপথে একটা অস্পষ্টতা গ্রিন লিফের মতো
ভেতরটা তাড়িয়ে বেড়ায়
মুষড়ে পড়ে থাকে
পায়চারি সারাদিন, সারা সন্ধ্যা। ঘুমহীন রাত জেগে থাকে বারান্দায়।
যে মুখকে আমি খুঁজে ফিরি সে প্রেমিক কিংবা প্রতারকের নয়; শাসক কিংবা শোষকের নয়।
তবে কে? কার ছায়া-অবয়ব, কার মুখ ভেসে ওঠে?
জানি না; জানি না
হয়তো সে কেবলই বুকের ভেতর চিন চিন ব্যথা,
একটা মায়ার পরত
অস্পষ্ট উচ্চারণ
ঠিক তোমারই ছবি, কিংবা সে তুমি নও।
যে ফেরায়, সে জানে না
বারংবার যে ফিরিয়ে দেয়
দরোজা থেকে দেয় তাড়িয়ে উপেক্ষার চাবুকে
জেনো, সে জানে না তোমাকে সম্মানিত করার মাহাত্ম্য।
তুমি একটা ফুল, একটা প্রদীপ কিংবা ভোরের নরম আলো
তোমার পরশ পেলেই হয়তো সে অন্ধকার ঘরে ঝিকিমিকি আলোরা নৃত্য করতো
হয়তো মুছে যেত হৃদয়ে জমাটবদ্ধ পুরোনো পেঁয়াজের ঝাঁজ।
শ্যাওলা পড়া দেয়ালের বুক চিরে ফুটতো সাদা কিংবা গোলাপি নয়নতারা।
যে ফেরায়, সে জানে না
হৃদয় একবার ব্যথা পেলে ভাঙে,
বারংবার ব্যথা পেলে হয়ে ওঠে তেজস্বী সূর্য
যাকে পৃথিবীর সমস্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটেও টুকরো টুকরো করা যায় না।
পৃথিবী লিখে রাখুক মায়ের আয়ু
মায়ের সাদা চুল
আলতো আঘাতে বুকে মোচড় দেওয়ার অনুভূতি জাগায়।
পৌষের কুয়াশা ঝরা সকাল শেষে দুধ- কুসুম রোদ লুকোচুরি করে আর বলে
তাঁর বয়স বাড়ছে। এক পা, দুই পা করে আগাচ্ছে কোনো এক অনির্দিষ্ট ঠিকানার দিকে।
ভয়ের শকুনেরা আমায় জাপটে ধরে
শতাব্দীর সব ভার কাঁধে ভর করে
মনে হয় তাঁর আঁচল জুড়ে গিট বেঁধে থাকি, যেমন চাবিরা থাকে।
দিনের নামতাঘরে সরলরেখা আঁকতে আকতে রোজ কাটাকুটি খেলা খেলি।
পৃথিবীর কত্ত কত্ত হিসেব, অথচ সেসব দর কষাকষি, মাপজোখ ভালো লাগে না।
আমি কেবল পৃথিবীর পথে পথে লিখে যেতে চাই মায়ের আয়ু।
আমার মা— খুব সরল, ভীষণ সাধারণ
তার চোখ যেন নান্দনিক সরলকাব্য।
কাঁথার ফোড়ে ফোড়ে যে মমতা তিনি লিখে রাখেন
সেভাবে পৃথিবী লিখে রাখুক তাঁকে।
সবার বয়স বাড়ুক
দিন গিয়ে মিলুক সন্ধ্যার কোলে
বয়সী বট অপরাহ্নে নুয়ে পড়ুক অজানায়
কেবল মায়েদের বয়স না বাড়ুক। না বাড়ুক।