জিগালৌ

By Published On: March 26, 2025Views: 30

জিগালৌ
আহমদ জসিম


যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! বাস থেকে নেমে ভাড়া দিতে গিয়েই ব্যাপারটা বুঝতে পারল ফজল মোহাম্মদ। রীতিমতো সু-হাতের কারুকাজ। উপরে সব ঠিকঠাক আছে, অথচ শার্টের ভেতরের পকেট থেকে সারা মাসের মেহনতের আয়, দুটো টিউশনেরমাইনে টাকা গায়েব!ফজল মোহাম্মদ প্রথমে সারাশরীরে টাকাটা খোঁজার জন্য উন্মাদের মতো হাতরে বেড়াল, তারপর বাস কন্ট্রাক্টর দিকে অসহায় ভাবেতাকিয়ে—‘ভাই টাকাতো নাই’, বলে হাউমাউ করে বোকার মতোকেঁদে দিল। ফজল মোহাম্মদের কান্না দেখে অপ্রস্তুত বাস কন্ট্রাক্টর কিছুক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকার পর—আপনারে তো মামুই খায়ছে, তাউক ভাড়া লাগবে না বলে বাংলা মোটরে মোড়ে নামিয়ে দিল।

এই দুটো টিউশনের টাকায় তারা সারামাস খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।চোখে যেন সরষে ফুল দেখছে। পেইন্ট গেস্ট হিসেবে একটা রুম নিয়ে থাকে যে মহিলার কাছে, আজকে টাকাটা দিতে না পারলে নিস্তার নেই তার হাতে। হয়তো প্রচন্ড অপমান লাঞ্ছিত করে এক কাপড়েই বের করে দেবে! তখন থাকতে হবে রাস্তায়। কথাগুলো ভাবতেই শিউরে উঠে ফজল মোহাম্মদ, চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠে সেই মধ্যবয়স্ক তিন সন্তানের জননী ডিভোর্সী ফুলির মারনিষ্ঠুর মুখ! বিএ’টা পাস করে লেখক হবার স্বপ্ন নিয়ে আর একটা চাকরি পাবার আশায় গ্রাম ছেড়ে ছিল ফজল মোহাম্মদ। ভাবনা ছিল চাকরিটা হয়ে গেলে নিজেকে ফুলির মার কবল থেকে মুক্ত করে একটা বাসা নিয়ে উঠে যাবে, কিন্তু চাকরি তো আর হয় না, তবে লেখালেখিটা চলছে দমছে।

লেখার কথাটা মনে আসতেই কিঞ্চিৎ আশার আলো জেগে উঠে ফজল মোহাম্মদ এর মনে। আজ ছ’মাস ধরে ‘আলো ভোর’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীসহ নানা সাময়িকীতে লেখা সাবলাই করে পৃষ্ঠা ভরানোর কাজটা ভালোই করছে। সম্পাদক সাঈদ টিপু জোড় দিয়ে বলেছিল, লেখে যাও সময়মতো সবগুলো লেখার বিল করে দেব। কথাটা মনে পড়তেই ফজল মোহাম্মদ যেন হালে পানি পেল, প্রচন্ড আঁধারে এক ঝলক আলো দেখল! বাংলা মোটর থেকে ‘আলো ভোর’ পত্রিকার অফিস পায়ে হেঁটে ৫ মিনিটের দূরত্ব। এক বুক আশা নিয়ে ফজল মোহাম্মদ রওনা দিল সেই দিকে


দাদা কিছু বিল পাওনা ছিল, যদি দিতেন। ফজল মোহাম্মদ কথাটা বলেছেন একদম করুণ ভাবে। বলতে গিয়ে কেমন অস্থির হয়ে উঠেছে। সম্পাদক সাঈদ টিপু মাথা নিচু করে পত্রিকার পৃষ্ঠায় নিবিষ্টভাবে তাকিয়ে আছে। ভাবটা এমন, যেন ফজল মোহাম্মদের কোন কথায় তার কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি। আমতা আমতা করে কথাটা দ্বিতীয়বার বলতে যাচ্ছিল ফজল মোহাম্মদ। সম্পাদক এত¶ণে পত্রিকার পৃষ্ঠা থেকে চোখ তুলে ভ্রঁকুঁচকে ফজল মোহাম্মদ এর দিকে এক পলক তাকাল, তারপর বিরক্ত ভরা কণ্ঠে চিবিয়ে চিবিয়ে বলতে শুরু করল—‘আরে ভাই মালিক আমাদের চার মাসের বেতন বাকি রাখছে সংসার চলে না; আর আপনে আসছেন লেখার বিল চাইতে! এখন জান সময় হলে ফোন দিমুনে।’ ফজল মোহাম্মদসব ঘটনা খুলে বলতে যাচ্ছিল কিন্তু কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সম্পাদক সাঈদ টিপু দ্রুত চেয়ার থেকে উঠে গেল। এরপর আর কিছুই ভাবতে পারছে না ফজল মোহাম্মদ। শুধু ওই মধ্যবয়স্ক মহিলাটার নিষ্ঠুর মুখটা ভেসে উঠছে ফজল মোহাম্মদের এর চোখের সামনে।ঘামে ভিজে চুপসে যাওয়া শরীরটা নিয়ে ফজল মোহাম্মদ চারতলা পত্রিকার অফিস থেকে নেমে আসল। তারপর দুপুরের ঠাঁ-ঠাঁ সোনা রোধে কিছু¶ণের মধ্যেই ফজল মোহাম্মদ রাস্তায় নেমে ব্যস্থ পথিকদের একজন হয়ে গেল। অনিশ্চয়তা আর দুর্ভাবনা মিলে তাকে দিকশূন্য করে ফেলেছে।নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। যেন জনারণ্য ভরা এই ময়দানে নিঃসঙ্গ একাকী একজন।

যে নগরে লেখক হবার স্বপ্ন নিয়ে চাকরি পাবার আশা নিয়ে এসেছিলো, সেই নগরকেই ফজল মোহাম্মদের কাছে খুব অচেনা লাগছে, মনে হচ্ছে নগরের প্রতিটি বস্তু ফজল মোহাম্মদ-এর দিকে তাকিয়ে উপহাস করছে আর বিড়বিড় করে বলছে—‘তুমি শালা লেখক হবা?

লেখালেখি অহন বড়লোকের শখ আর গরিবের ঘোড়া রোগ, দেহ না‘ম’ মতো এত প্রতিভাবান লেখক দেশ ছেড়ে বিদেশ পালাচ্ছে দিনমজুরি করতে আর তুমি হা হা হা।’ এই এলোমেলো ভাবনার ভেতরেও ফজল মোহাম্মদ নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে, নিজের দুর্ভাবনার জবাব নিজেই খুঁজে বের করে বলে—‘খুব বেশি কিছু নয়, আপাতত ভাত খরচের টাকা নয় হাত খরচের টাকাটা লেখালেখি থেকে জোগাড় করতে চেয়েছিলাম, এটা খুব বেশিকিছু?পৃষ্ঠা ভরাট করার জন্য হলেও যে পত্রিকায় লেখার দরকার পড়ে, এই কাজটি যারা করে তাদের কী কোন পারিশ্রমিক থাকতে নেই? তবে কী লেখার সাথে লেখকের নাম ছাপানোকেই পারিশ্রমিক হিসেবে ধরে নিয়েছে পত্রিকা মালিকরা। কথাটা মনে আসতেই ফজল মোহাম্মদের মুখ থেকে অবচেতন ভাবে বেরিয়ে আসে—দুৎ শালা, মালিকের ভাবনা আমার নামে!আবার পরক্ষণেই ভাবে,পাঠকের কাছে পৌঁছাতে হলে নাম পরিচিতিরও তো একটা গুরুত্ব আছে, আবার প্রশ্নও আছে বই বেচে টাকা কামিয়েছেন যারা তারা তো আমার মতো নাম পরিচিতির জন্য দৈনিকে ফরমায়েশী খাটেনি। আমি খাটতে বাদ্য হচ্ছি দুইটা পয়সার জন্য। না, ওদের মতো অত টাকা নয়, রাত্রিযাপনের জন্য একটা চিলেকোঠা আর দু বেলাদু মুঠো ভাত।

হয়তো আপনারা বলবেন লেখালেখি করে পারিশ্রমিক পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই দ¶তার পরিচয় দিতে হবে। তবে বলে রাখি জনাব, ওইসব দ¶তা ফক্ষতা একদম বাজে কথা, ইলিয়াস কী তবে কম দক্ষ ছিল? তাঁরপ্রথম গল্পগ্রন্থ ছাপা হয়েছিল ৩৫০ কপি, ৩০০ কপিই পোকায় কেটেছিল।

সাধারণ মানুষ তো সাহিত্য পড়েই না, বরং যারা সাহিত্য পড়েন কিংবা পড়ান সেইসব শিক্ষকশিক্ষার্থীরাও তো সাহিত্য টাহিত্য এসব পড়েন বলে মনে হয় না, এই কথাটা যেমন সত্য সেই সাথে এটাও সত্য যে পত্রিকাওয়ালারা দয়া করে লেখা ছাপেন না, ছাপেন তাদের বাণিজ্যিক প্রয়োজনে।

সবচেয়ে বড় কথা যারা লিখতে চায়, তারা দু’বেলা খাবার জোগানটা যাতে নিশ্চিত করে আসে। এই বঙ্গে লেখক হিসেবে যারা আমাদের সামনে আইডল হিসেবে আছেন তারা সবাই অন্য পেশা থেকে লেখালেখি করেছেন, লেখার টাকায় সংসার চালান নিই।চাকরির কথা মনে আসতেই, ফজল মোহাম্মদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেস্মৃতিহাতরিয়ে খুঁজতে থাকে এই পর্যন্ত কতশত জন তাকে পিট চাপড়িয়ে বলেছে—‘বাহ তোমার লেখার হাত বেশ ভালো তো!’ ফজল মোহাম্মদ এবার নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে—‘ভালো লেখার ক্ষমতা কী চাকরি পাবার যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না?’আবার মনে মনে ভাবে প্রশ্নটা কেমন গবেটের মতো হয়ে গেল। কেন বলছি, যে সমাজে জ্ঞানীর থেকে গুন্ডার গুরুত্ব বেশি সেই সমাজে লিখতে পারাটা ক্ষমা কিংবা যোগ্যতা হিসেবে কেন বিবেচিত হতে যাবে? তাছাড়া একথাও ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা এমন এক দেশে বাস করি যে দেশেরশি¶িত জনদের শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ মানুষ পরী¶া পাসের জন্য পাঠ্য ছাড়া অন্য কোন বই পড়ে না জীবনেও।বই পড়লে মানুষ সংবেদনশীল হয়, এই অবক্ষয়গ্রস্তপুঁজিবাদী সমাজে সংবেদনশীল মানুষের দরকার নেই, দরকার হলো যান্ত্রিক মানুষের!

ফজল মোহাম্মদ এর অন্তর্গত ভাবনাগুলো আরো তীব্র হতে পারতো। কিন্তু তার পূর্বেই বাধাগ্রস্থ হয় এক পথিকের সাথে ধাক্কা খেয়ে। সংবেদ ফিরে পেয়ে দেখল, নিজের অজান্তেই চলে এসেছে গন্তব্যের একদম কাছাকাছি। এমনেই হয়, ফজল মোহাম্মদভাবনায় আত্মমগ্ন থাকলে এমনেই হয়। কখনো হোটেলে চা খেয়ে টাকা না দিয়ে বেরিয়ে আসে, আবার কখনো টাকা ফেরত না নিয়ে। কখনো রিকাশচালকের কাছে সিগারেট চায়, আবার কখনো সিগারেট কিনতে গিয়ে বলে—‘ভাই অমুকখানে যাবেন?’ এত¶ণ এই আত্মমগ্ন ভাবনার কারণেই মূল সমস্যাটাভুলেছিল ছিল ফজল মোহাম্মদের। ওই নির্বোধপথচারীধাক্কা দিয়ে আবারও মনে করিয়ে দিল, ফিরতে হবে একটা গন্তব্যে। আরো মনে করিয়ে দিল,দু’মাসের থাকা-খাওয়ার টাকাটা বাকি পড়েছে, তার মধ্যে আজ অন্ততপক্ষে এক মাসের টাকাটা দিতে হবে! আজ টাকা ছাড়া ঘরে গেলে সম্ভাব্য পরিণাম কী কী হতে পারে? ফজল মোহাম্মদ এটা কল্পনা করার চেষ্টা করে। অথচ চোখের সামনে শুধু ভেসে উঠে ফুলির মার মুখটা। ফুলির মার সামনে দাঁতগুলো একটু বেশি ফাঁক বলে উত্তেজিত হয়ে কথা বললেদাঁতেরফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসে দলা দলা থুথু। টাকাটা দিতে না পারলে কীভাবে কথা বলবে ফজল মোহাম্মদের সাথে? প্রশ্ন আর চরম আতঙ্ক নিয়ে ঢুকলগন্তব্যের গলি পথটাই।

গলির তিন নম্বর দোকানটা আলীর। আজ দেব কাল দেব করতে করতে সিগারেটের বেশ ক’টাকা বাকি পড়ে গেছে। আলী দোকানে নেই, এই ফাঁকে দ্রুত গা-বাচিয়ে সামনে আসলে আরেকটা গলির মুখ। যে গলির প্রথম থেকে তিন নম্বর ঘরটাতে পেইন্ট গেষ্ট হিসেবে থাকে ফজল মোহাম্মদ। ফজল মোহাম্মদ একা নয়, এই রকম অনেকেই ফুলির মা’র কাছে টাকা দিয়ে দু’বেলা খাবার খায়। ফজল মোহাম্মদের জন্য বাড়তি হলো, খাওয়ার পাশাপাশি তিন রুমের একটা রুমে সাবলেট হিসেবে থাকে ফজল মোহাম্মদ।থাকা খাওয়া বাবদ মাস শেষে ফজল মোহাম্মদকে যা দিতে হয় তা এই দুর্মূল্যের বাজারে বেশ কমেই বলতে হবে। খিটখিটে স্বভাবের বদরাগী এই ফুলির মা অন্যদের তুলনায় ফজল মোহাম্মদকে বেশ ভালোই ব্যবহার করেন বলে মনে হয়।

ভালো ব্যবহারের কথা মনে আসতেই ফজল মোহাম্মদের চরম দুর্ভাবনার ভেতরেই হঠাৎ খিলখিল হেসে উঠে, মনে পড়ে যায় একটা বিশেষ ঘটনা, ঘটনাটা এই রকম—টিউশনে জন্য বের হবার আগে খাটে শুয়ে, খুব মনোযোগ দিয়ে ইলিয়াসের খোয়াবনামা’টা পড়ছিল ফজল মোহাম্মদ। ফুলির মা হঠাৎ রুমে ঢুকে—‘ও খোয়াবনামা পড়তাছো?

তই আমারে একটা স্বপ্ন দোষের তাবিজ দিতে পারবা?কদিন ধরি শরীর নিয়া বড্ড কষ্টে আছি।’ ফুলির মার কথা শুনে ফজল মোহাম্মদ রীতিমতো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।ফজল মোহাম্মদের হাসি দেখে ফুলির মা রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে—‘কী মিয়া হাস ক্যান, আমি কী অহনও বুড়া অইছিনি, একটা মরদ তো অহনও আমার লাগে…।’ কিন্তু ব্যাপারটা আরো গভীর হবার আগেই ফজল মোহাম্মদ কৌশলে উত্তর দেয়—‘নাগো খালা, আমি যে তাবিজ দেওয়া শিখছি, এটা আপনার কাছে ধরা পড়ে হাসতাছি।’সেদিন উপস্থিতি বুদ্ধি দিয়ে ফজল মোহাম্মদ নিজেকে বাঁচিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু আজ? থির দুপুরে ঠাঁ-ঠাঁ রোধ ভেঙে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফজল মোহাম্মদ ঘরে ঢুকল। ঘরে ঢুকেই ফজল মোহাম্ম সোজা নিজের খাটের ওপর শুয়ে পড়ল। পুরো ঘর নিস্তব্ধ। ফুলির মা কোথায়? বেশ কিছু¶ণ পর ছায়া ব্লাউজ পড়ে ভেজা চুলে ¯্নানঘর থেকে বেরুলো ফুলির মা। ফজল মোহাম্মদকে দেখে দ্রুত শাড়ি দিয়ে শুকনো বুক আর কুঁচকানো পেটটা লুকাতে লুকাতে মুখ শক্ত করে কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই ফজল মোহাম্মদ দ্রুত বলে উঠল—‘আজ আপনারে খুব সেক্সি লাগতাছে খালা!’কথাটা শুনেই ফুলির মা’রশক্ত ও কালি বর্ণের মুখটা যেন মুহূর্তের মধ্যে নরম ও উজ্জ্বল হয়ে উঠল! এবার শাড়িটা হাত থেকে ফেলেহাসি মাখা মুখে এগিয়ে গেল ফজল মোহাম্মদের কাছে, বসল একবারে শরীর ঘেঁষে, তারপর একটা হাত রাখল ফজল মোহাম্মদের রোমশ বুকের ওপর, তারপর ফুলির মা দানবীয় উন্মাদনায় খেলতে শুরু করল ফজল মোহাম্মদের শরীরটা নিয়ে।এক ভয়ানক ক্লান্তিকর প্রেমহীন আদি খেলার শেষফজল মোহাম্মদ করুণ কণ্ঠে—‘খালা টাকাটা…’ কিন্তু বাক্যটা শেষ করার আগেইতৃপ্তিভরা হাসিমুখে ফুলির মা তার আঁশটে গন্ধভরা আঙুল দিয়ে ফজল মোহাম্মদের মুখ চেপে ধরে, কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস বলল—‘খালা নয় বোকা, ভাবি বল।’

0 0 votes
Rating
Subscribe
Notify of
guest

1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments