অপার অরণ্য এর কবিতা

By Published On: March 28, 2025Views: 9

চাঁদের ভায়োলিন

ইলিশের রক্তাভ চোখের মতই চকচকে রূপালি চাঁদ
নূপুরনিক্বণে বিগলিত ঝুমঝুম জ্যোৎস্নার হেম
সৌমিত্র সন্ধ্যায় প্রিয়মুখ বেজে উঠে অবিরল
চোখের সেতার:
ছাদে— কুয়াশায়— পারদঠোঁট

প্রজাপ্রতি যুগলেরা এসো একবার
পৃথিবীর প্রান্তর মাঠে ফালি ফালি রাত নেমেছে
ঝিঁঝিঁদের সংসারে মহুয়াফুল তুমি নত হও
হৃদয় কাঁপানিয়া যাদুরাত ফিকে হলে
পাবেনা খুঁজে তারে অন্য এক শাদা ছুটির দিনে,
অন্য আরও সুদূর শুক্রবার; পালক পুড়ে যায়:
খোলস ছাড়ে মৃত মৃত সমুদ্রের স্মৃতি—

শঙ্খলতা, লতানো জীবন

বাঘে ধাওয়া হরিণের প্রাণপণ দৌঁড়গুলো
জুঁইফুলের স্বভাবে সুগন্ধি মারবেল,
নক্ষত্রের রেখা ধরে ফিরে আসে আবার;
মৃত্যুর আবক্ষে ফোটে মৌ মৌ ঢেউ।
চিরায়ত সন্ধ্যার আরতি ও আদর, আঁধারের স্তন, ক্লেশ
যেইদিকে সস্নেহে বাড়াই হাত—
ব্যাখ্যাতীত গল্পের ফোঁড়ন।
শুধু ‘সাতভাই চম্পা’ নিষ্কাম রূপকথার ভোর।
চক্ষুহীন বেফাঁস বসন্তদিন
পাতাঝরা হুইসেলে সতর্কতা ছড়াতে ছড়াতে
পিছনে ফেলে যায় বেতবনের ছায়া।
শ্যাওলা-সবুজ যাপিত ফ্রেমে
তলিয়ে যাওয়া গণিকার অন্ধ প্রজাপতি
খুঁজে মরে অবোধ কিশোর।

তারপর, ঘাসের ইশারায়
আহত আকাশে ফুঁ দিলে মাটির গজায় ঠোঁট;
মেঘের কিতাবে বৃষ্টির গান লিখে ফিরে আসে
আগুনের লাল। পুড়ে যায় সেচ্ছায়।
কখনও অনাগত আলিঙ্গনে ঋতুমতী দুঃখ—
কদমের নরম খোঁচায় চৌচির গাল।
এইভাবে বৃক্ষ একদিন ভালোবাসলে,
বিচূর্ণ জীবনের সংঙ্গা উঠে যায় সহমরণের চিতায়

মন ও বনের দূরত্ব—মূলত ঘর ও ঝড়ের মাতলামি
এই জেনে, নিজস্ব ব্যাকরণে বেঁচে থাকা
ধীর ও ধ্রুব রাত্রির মতো, নির্ভার।
লতাপাতার শৃঙ্খলায় মুখ গুঁজে
একজীবন জপতে থাকো নিঃসঙ্গতার যৌথ বিছানা

বিস্মৃতির ভ্রুণচিহ্ন

যাত্রীর পিপাসা জুড়ে বহুগামি ট্রেনের প্রত্যাবর্তন
ঘুরেঘুরে মরণপাখার প্রলোভিত বাসন্তী ছিঁড়ে
অর্বাচীন কেউ খুঁজলে না চাঁদের প্রকার।
জলতলে মাছের মোগলাই ভেবে
মাছরাঙা খোয়া দেয় নাতিদূর খয়েরি আলাপ
চুপকথা কূপ হয়ে পুড়ে যায় আধেক দৃশ্য— অদৃশ্যে!
পাথর পাথর বলে কেঁদে চলে অন্ধ নদী
পাথর তো জানেনা এই হিমডুবে আগুন নিরবধি

অযত্নে দূরাকাশ মুছে যায় ধীরে
তারকার আলপিনে গেঁথে যায় আলো
তারচেয়ে লিখে লিখে দেয়ালের শরীর
ব্যথার ঊষালালে রেখে দেই চলো—

না-গজানো নূতন ঘাসের স্মৃতি,
স্মৃতি কিংবা বিস্মৃতি..

অ-সুখী সূর্যকে

পৃথিবীর আদিম পাপ থেকে বেরিয়ে
সাতসকালে ফুটল একটি দুপুর—
গুড়ো গুড়ো নীল,
কিছু কলি..

ইচ্ছে হলেই কুড়িয়ে নিও জল-মুকুরের চুমো..

তুমি থাকো,
চোখের বরফ গলতে দিও না চোখে
দহনখেলায় ভাসিয়ে আমার কাল..
তুমি যাও,
চোখের লবন শুকিয়ে নিও রোদে
আমার বুকে জমতে থাকুক লাল..

সুখি হও সূর্য, শীতল হও
আমার অশ্রুজল দেনমোহর দিলাম

উড়োচিঠি কিংবা কদম সমীপে


অস্ফুট কদমের দিন কিংবা আত্মহত্যাপ্রবণ জ্যোৎস্নায়—
তোমারে ক্যান ভালোবাসলাম, জানো?
শতফুলের পরাগ পেয়েও আদুরে গলায় একবার ডাক দিলে দুনিয়ার তাবৎ সংশয়ে নির্ভয়ে ক্যান চুমুক দিতাম?

সকলেই জানে— আমি না-জানলেও তুমি তা জানো!


তোমার মুখ দেখলে
তপ্ত হৃদয়ে ফোটে বরফের রং
পাশে বইসা থাকলে সমস্ত ঋতু শুধু বর্ষা আর বৃষ্টি।
তোমারে ছাড়া সারাটা দিন নোনতা লাগে,
কিচ্ছু ভাল্লাগেনা।
তোমার ইঙ্গিত এটুকুই—
আজকে রাইতে আসো, বাসা পুরা খালি!


মন থেইকা তোমারে ভালোবাইসা জানলাম
তুমি আমারে মন ভইরা উপভোগ করছো

চাঁটমশলার বিকল্প আলাপ, সঙ্গম থেকে জেনেছি
কবিতা আর সঙ্গমে ছুঁতে পারতো জীবন
অথচ, কবিতা হয়নি, সঙ্গম হয়েছে বেশি


ভালোবাসি বললে ধরে নিতে ক্ষিদে পেয়েছে
কেনো বুঝতে চাওনি তৃষ্ণার গোপন খাদ
অভিমানে ছিঁড়ে ফেলতে চাইলাম
তুমি বুঝলে কদমের গন্ধে হিংস্র নাভিশ্বাস

সেই থেকে দুই খণ্ড আকাশ দুজনের
দুজনেই একা এক ডানাভাঙা পাখি!

0 0 votes
Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments