চাঁদে পাওয়া মানুষ ও অন্যান্য কবিতা
মাসুদুল হক
১
চাঁদেপাওয়ামানুষ
লিকলিকে যে চুরকা সরেনকে আমি চিনি;
ও চাঁদের আলোতে উলঙ্গ গাধার পিঠে
জামাকাপড় খুলে ফেলে।
আমি বললাম,”এতো বয়স হলো;
তবু তোর কাণ্ডজ্ঞান হলো না!”
হাড়িয়াডোবা কণ্ঠে ও বলে, “না হে মানতান!
হামি এখোন চাঁদমানুষ,হামার কোনো
বয়স হয় নাই।”
২
নিষিদ্ধ জল
নিষিদ্ধ জল খেতে চায়নি মীনাক্ষী
মালিকের ছেলে জোর করলো বলে
কয়েক ঢোঁক গিলে নিল
তারপর নগ্ন হয়ে প্রাকৃত নারী হয়ে ওঠে
মালিকের ছেলে কুকুর হয়ে গন্ধ শুঁকে
আসলে যা নিষিদ্ধ তাই বুঝি সত্য
সত্য বলেই নগ্ন হওয়া নিষিদ্ধ
৩
গোপনে তা সিদ্ধ
আসলে যা নিষিদ্ধ তাই সত্য
সত্য বলেই নগ্ন হওয়া নিষিদ্ধ
প্রেম কাম চুম্বন প্রকাশ্যে
একদম নিষিদ্ধ
অথচ গোপনে তা সত্য
৪
তুমি এক আশ্চর্য ফুল
আশ্চর্য এক ফুল তুমি সুরভি ও লাবণ্যে
পাহাড়ি বাতাসের তরঙ্গে আমার ঠোঁটে
ছড়িয়ে দাও ভালোবাসার রেণু;
আশ্চর্য মনোরম হয়ে ওঠে আমার দিন
তোমার কোমল স্পর্শে
তোমার বুকের গভীরে আমি শুনতে পাই
স্বরলিপির চৌদল ঐকতান
সন্ধ্যাকালীন রাগশ্রী তুমি
বীণার তারে জাগো ও জাগাও রাত
আমার বুকের গভীরে অভিমানের ক্ষত
যেভাবে হয়েছে শুষ্ক
তাকে তুমি কর রসালো;
তোমার প্রেমের জোয়ারে জাগাও
শত ঝর্না আরও
তোমার ঢেউখেলানো চুলে
আবেগের নদী বয়ে যায়
আমার আঙুল সে জলে সাঁতার কেটে
জীবনের স্রোত খুঁজে পায়
আমার নিস্তেজ ঠোঁটের ভ্রমরদুটো
সতেজ হতে চায়
তোমার প্রেমের মধু পেলেই
গুঞ্জন করবে নির্দ্বিধায়
মন যদি মন না-ই পায়
তবে তা মরে থাকে
মরা মন বেদনার ভারে
ক্রমশ পাথর হয়ে ওঠে
হৃদয় যদি প্রেমের ছোঁয়া না পায়
তবে তা নিষ্ফলা মাঠের মতন
বিষণ্ণ ফুল ফুটেও
ঊষর আর ফলহীন!