চিঠি
শামীম নওরোজ
চিঠি / ০১
পুকুরের পাড়। কতিপয় রাজহাঁস
শীতের সকাল। খেজুরের গুড়
বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার নবাব
হীরাঝিল। বেগম বিলাস। লুৎফুন্নেসা
জোয়ার-ভাটা। বন্ধু-বান্ধব
যাত্রা নাস্তি। কাক ও কোকিল
শীত রাত্রি। এ ওকে, সে তাকে
মধ্যরাত। রতির মমতা
ভালোবাসা আছে। বেদনা বাড়ছে
পুকুরের পাড়। বিশাল আকাশ
চিঠি / ০২
পৌষের শেষ
মাঘের শুরু
তুমি যাচ্ছো বসন্তের দিকে
আমি চিঠি লিখছি তালপাতায়
প্রেম ও অপ্রেমের কালো কালিতে
শেষ বসন্তে
ফুল হারিয়ে যায়
উড়ে যায় পাখি
এই চিঠি তোমাকে কবিতা শোনাবে
শব্দে-শব্দে প্রেম ও যৌনতা
পৌষ নেই
মাঘও নেই
তুমি আছো বুকের ভেতর
চারিদিকে ফুল ও কোকিল
চিঠি / ০৩
সনাতন দাস বাউল
শশাঙ্ক গোসাঁই
যোগেন চৌধুরী
তার সঙ্গে ছবিতে মুগ্ধ
নিকেতনের কলা ভবনে একতারা বাজে
প্রাণ ভরে যায় ফুলমালাদির গানে
লোকধর্ম
লোকগান
প্রশান্তিতে মন ভরে যায়
হৃদমন্দিরে মুরশিদের ছায়া
বৃন্দাবনে আত্মার ভেতরে পরমাত্মা
এখন আর গুরু নেই
নিজেই গুরু
পার্বতী বাউল
চিঠি / ০৪
তোমার ভেতরে ঘুমায় সন্ত্রস্ত কাক
বিলের গভীর থেকে উঠে আসছে মহিষের গাড়ি
মা তাঁর ছেলেকে খুঁজতে-খুঁজতে নিজেই হারিয়ে
গেছে
এবছর বেগুনের আবাদে আগুন লেগেছে
বাজার ঘোরাচ্ছে পরিশ্রান্ত মানুষকে
ফিরে যাচ্ছে লোকালয়ে একপাল কুকুর
শিয়ালের জন্য কারো হয়তো মায়া থাকতে পারে
তোমার ভেতর থেকে এইমাত্র উড়ে গেল একটি কাক
সন্ত্রস্ত ভালোবাসায় শরীর ভেজে না
চিঠি / ০৫
বাজারে যাবো
এক পশলা বৃষ্টি হলো
ধুলো মরলেও পথে কাদা জমে গেছে
সাবধানে হেঁটেও কোনো লাভ হবে না
প্রিয় চটির মতো পায়ের তলায় জড়িয়ে যায় কাদা
বাজারে যেতেই হবে
মা খুব অসুস্থ
ওষুধ কিনতে হবে
মেঘ আর গলবে না হয়তো
কাদা এড়িয়ে পৃথক একটি পথ
তৈরি হতেও পারে
যাই, যাচ্ছি