অক্ষরা নদী
১
মধ্যে মধ্যে মনে হয় তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তোমার ¯পর্শের দাগ আমার বুকে রক্তজবা হয়ে ফুটে আছে, এই জেনে ভাবি কত কাল তোমার সঙ্গে দেখা হয় না!
২
কী তীব্র লাল হয়ে আছি দেখো,
তোমার অহংকার যেমন!
ভ্যানিটি ব্যাগে রেখে দাও রোদচশমা,
সূর্যমুখী হও।
৩
রাস্তাটা দাঁড়িয়েই ছিল, উল্লম্ব। আকাশ দীর্ণ করে ছিল তার পথ। খেলাচ্ছলে একদিন ল্যাং মেরে আমিই ফেলে দিয়েছি তাকে। সেই থেকে পৃথিবীজুড়ে দিঘল শুয়ে আছে, আর দাঁড়াতেই পারে না।
৪
মাথার ভেতর বৃষ্টি নামে, ঝমঝম বৃষ্টিপাহাড়,
মাথার ভেতর এসো না আর কোনোদিন,
একাই ভিজব বৃষ্টির দাগে, আবারও আবার।
৫
তুমি বনে গেলে আমি বুঝতে পারি।
৬
শিবরঞ্জনী একা বাঁশিতে ভেঙে যাবার পর
প্রতি রাতেই হারিয়ে যায় চব্বিশ ডিসেম্বর।
৭
ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে দুপুর।
৮
সেইদিন ভান্ডীরবনে আমিই ছিলাম,
প্রকৃতির মুখে গান ছিল আমারই নাম।
৯
একটা ফ্যাকাশে নীল রেখার ছায়ায়
শুঁয়োপোকাদল প্রজাপতি হয়ে যায়।
১০
হাওয়া ছিল ডানাভাঙা রাত্রির বীণ,
আমি তাই চিরদিনই গান ঘ্রাণহীন।
১১
কুয়াশার ভেতর একটা বাড়ি ভেবে বসে আছি,
বুক খুলে শুয়েছে মাঠ, সেই দূরের কাছাকাছি।
১২
কোথাও দেখোনি বলে ভেবো না আমি নেই,
আমি ছিলাম, আমি আছি, আমিই চিরদিন।
১৩
হয়, তোমার সর্বনাশ আমিই করেছি,
তোমাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছি।
১৪
একরাত্রিই দিয়েছিলে ধার,
তৃষ্ণার ঘ্রাণে অন্ধ পাহাড়।
১৫
বিরহ সে তো রাত্রিবিনাশী কুকুর,
রাতভর কেঁদে কেঁদে রাত্রিকে কাটে,
নৈঃশব্দ্য কেটে বানিয়ে দেয় ভোর।
১৬
মাত্র বৃষ্টির ছাট লেগে আমার বারান্দার সমস্ত কামিনী ফুটে গেছে।
১৭
পাশ ফিরে শুয়ে আছে ঘুম।
১৮
যেখানে গিয়েছিলাম, পথ মুছে গেছে,
পথের দাগই শুধু বুকে লেগে আছে।
১৯
তোমাকে যে পেয়েছি, এই কথা কেউ জানে না,
তুমিও জানো না যেমন।
তুমিও জানো না কতটা পাওয়াকে বলে পাওয়া,
কতটা জল চোখে হতে পারে অশ্রু।
২০
সে তো আর জানত না আমাকে তেমন,
জানত না আমার স্মৃতি জন্মদাগ হয়ে যাবে,
আমিও তাকে বলিনি কিছু,
বলিনি আমিই সেই অবিস্মরণ,
ভালোবেসে অসততা আমার এইটুকুই।
২১
সে: এই দিন কেন চিরদিন হয় না?
আমি: তাহলে তো কখনো এমন প্রশ্ন তৈরি হত না।
২২
তোমার কাছে চিঠি লিখছি,
এর মানে নদীতে লিখে রাখছি জল।
২৩
রাত বাড়লে বুঝতে পারি রাত্রি এসেছে,
আমি রাত্রির গন্ধ পাই।
২৪
আমার হাত নেই, পা নেই, দাঁত, জিভ, মাথা কিছুই নেই, অথচ
কুয়াশা মোড়ানো সকালের ভেতর ঢুকে ভেঙে দিচ্ছি নীল জিরাফ।
২৫
দুপুর মূলত একটা জিরাফের দিঘল গ্রীবা,
দুপুরের নৈঃশব্দ্য কোনো কোলাহলই ভাঙতে পারে না।
২৬
প্রস্তর যুগের আগেও পাথর ছিল। আজও আছে। পাথর না থাকলে তোমার হৃদয়ের তুলনা কার সঙ্গে দিতাম? বলো!
২৭
তুমি আকাশে থাকো, তাই আমি পাতালে থাকি।
২৮
সন্ধ্যা হলে কয়েকটি মধুমঞ্জুরি কুড়িয়ে আনি,
এই ফুল চিরদিন কার হাতে ফোটে আমি জানি।
২৯
তুমি চেয়েছ বলে অর্ধেক জীবন একটা ঘাসফড়িং হয়েই ছিলাম আমি।
এর মানে ঘাসফড়িং-এর বেদনাও আমি জানি।