মে দিবস – এক সংগ্রামের ইতিহাস
সুমাইয়া জান্নাত প্রেমা
সকালের আলোটা সেদিন যেন একটু আলাদা ছিল। রফিক খুব ভোরেই ঘুম থেকে উঠেছিল, কিন্তু আজ কাজে যাওয়ার তাড়া ছিল না। ১লা মে—মে দিবস। এই দিনটা তার কাছে শুধু ছুটির দিন নয়, বরং এক ধরনের স্মৃতি আর সম্মানের দিন।
রফিক একজন গার্মেন্টস কর্মী। প্রতিদিনের মতো ভোরে উঠে কারখানায় যাওয়ার অভ্যাস তার শরীরে মিশে গেছে। কিন্তু আজ সে বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে পুরোনো কথা ভাবছিল। তার বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। ছোটবেলায় বাবাকে সে দেখেছে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করতে। তবুও বাবার মুখে কখনো অভিযোগ শোনেনি।
হঠাৎ পাশের বাসার ছোট্ট ছেলেটা এসে বলল, “ভাইয়া, আজ কি তোমাদের ছুটি?” রফিক হেসে বলল, “হ্যাঁ, আজ আমাদের দিন।” ছেলেটা কিছু বুঝল না, কিন্তু আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকল।
রফিক একটু ভেবে বলল, “অনেক বছর আগে, শ্রমিকরা তাদের অধিকার চেয়ে লড়াই করেছিল। তারা চেয়েছিল ন্যায্য মজুরি, নির্দিষ্ট কাজের সময়। সেই লড়াইয়ের ফলেই আজ আমরা এই দিনটা পালন করি।”
ছেলেটা চুপচাপ শুনল, তারপর বলল, “তাহলে তোমরা হিরো!” কথাটা শুনে রফিক একটু হেসে ফেলল। সে কখনো নিজেকে হিরো ভাবেনি। কিন্তু মনে মনে একটা গর্ব অনুভব করল।
দুপুরে সে তার মায়ের কাছে গেল। মা আজও আগের মতোই বললেন, “খেয়েছো?” এই একটাই প্রশ্ন যেন সব ভালোবাসার সারাংশ। খেতে বসে রফিক ভাবছিল, তার বাবাও যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো এই দিনটা নিয়ে গর্ব করতেন।
সন্ধ্যায় এলাকায় ছোট একটা সমাবেশ হলো। সবাই শ্রমিকদের অধিকার আর সম্মানের কথা বলছিল। রফিক চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তার ভেতরে একটা শক্ত অনুভূতি জন্ম নিচ্ছিল—সে একা নয়, তার মতো হাজার মানুষ আছে, যারা পরিশ্রম দিয়ে এই সমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে।
রাতের দিকে বাসায় ফিরে সে জানালার পাশে দাঁড়াল। শহরের আলো ঝলমল করছে, কিন্তু তার চোখে ভেসে উঠছে বাবার মুখ। সে ধীরে ধীরে বলল, “আমরা চেষ্টা করছি, বাবা।” মে দিবস তার কাছে শুধু ইতিহাস নয়, বরং নিজের অস্তিত্বকে নতুন করে চিনে নেওয়ার দিন। প্রতিটি ঘাম, প্রতিটি পরিশ্রমের মধ্যে যে সম্মান লুকিয়ে আছে, আজ যেন সেটাই সবচেয়ে বেশি অনুভব করল রফিক।
নাম: সুমাইয়া জান্নাত প্রেমা।
গ্রাম: জালুয়াপাড়া, জেলা :কিশোরগঞ্জ, উপজেলা :কিশোরগঞ্জ।
কলেজ: কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ
শ্রেণি: দ্বাদশ