ঔপনিবেশিক
তুমি খুব চতুর আর হিংস্র
রক্তখেকো পশু, বিষাক্ত সরীসৃপ
তুমি ইবলিশের মতো কুমন্ত্রী
তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে শয়তানের রক্ত প্রবাহ।
তুমি অক্টোপাসের মতো অজস্র বাহুতে
জড়িয়ে আছো পৃথিবীর যাবতীয় সুখ
তুমি রাহুর মতো গিলে ফেলো
পূর্ণগর্ভা চাঁদের শরীর।
বিশ্বময় বিষকাঁটা ছড়িয়ে দিয়ে
তুমি দেখো বিক্ষত পথিকের কষ্টযাপন
আর তোমার ঠাঠা হাসিতে কেঁপে ওঠে
সমুদ্রতট থেকে সবুজ উপত্যকা।
ব্রিটিশ রাজ্যে সূর্য ডোবে না বলে
আস্ফালনকারী ড্রামবাদকেরা ইতিহাস হয়ে গেছে
গর্বিত টাইটানিক ডুবে গেছে ইতিহাসের অতলান্তে
তোমার মশালও নিভে যাবে কালের দমকা হাওয়ায়।
আমেরিকা, দম্ভের পাহাড় একদিন ধ্বসে যাবে নির্ঘাত।
ঝড়োরাত ও পিঁপড়ে-জীবন
এইখানে পড়ে আছে একমুঠো ভাত
গতরাতে এইখানে ছিলো এক উচ্ছল নদী
জলের সংসার ছিলো, হাওয়ার দোকান।
এইখানে পড়ে আছে কাশার গ্লাস
মদের বোতল, পোড়া মাংসের হাড়
গতরাতে এইখানে বয়ে গেছে ঝড়।
থেমে গেছে মানুষের প্রান্তিক উচ্ছ্বাস
কোলাহল থেমে গেছে, প্রেমিকার বিজলি চমক।
মিথুনরত পায়রার দু-একটি পালক পড়ে আছে
শান্তিময়তা উবে গেছে। পড়ে আছে ঝড়ের পদচিহ্ন
বাসাভাঙা পিঁপড়েরা অসহায় চেয়ে আছে
ভরসার রিলিফ ক্যাম্প আসবে কি নাগালের ভেতর!
অনেক দেখেছি ভেবে, মানুষ এখনও এক অসহায় পিঁপড়ে-সমান।
জয়ী হবে নির্ভীক
যুদ্ধ-রাতের শেষে জাগে আজ শান্ত ভোরের আলো
খোকার হাতের মোয়াটি যেনো আঁধার কাটাতে ভালো।
বাজির দোকানে বারুদের ঘ্রাণ বাতাসে ছড়ায় বিষ
অসুখ ছড়ায় রক্তে আজও মারণ অ্যানোফিলিস।
ডিনামাইট সব মানুষেরা আজ দিব্যি রয়েছে বেঁচে
ধ্বংসের বীজ বুনে যায় তারা মরণ-ফলের গাছে।
আসো তবে আজ হোলি ফুরোবার আগে মাখি এই গায়
মিছিল-কণা ও আগুনের জেদে চলি প্যারেডের পায়।
অন্ধকারের খনির মুখে সুকঠিন আকরিক
গেঁথে দিয়ে রচি নিষেধ-দেয়াল, জয়ী হবে নির্ভীক।
সময়ের পাঠ
অ থেকে অনুস্বার পর্যন্ত উচ্চারণ শিখে
ভেবেছিলাম সবকিছু জানা হয়ে গেছে
কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বুঝলাম
অজ্ঞতার দাগ এখনো স্পষ্ট।
পুনরায় গুরুগৃহে ফিরতেই
শুনলাম নীরবতার শব্দ
ভাঙা খাঁচার পাখির মতো
মন তখন পথ খোঁজে।
গুরু বললেন না কিছু
শুধু রেখে গেলেন এক ফোঁটা তীব্র সময়
যা হাতছাড়া হলে
এক পৃথিবীর মূল্য দিয়েও ফেরানো যায় না।
সেদিন বুঝলাম—
সময় কোনো সংখ্যা নয়
এটা অনুশীলন, অনুতাপ
আর দেরিতে শেখা এক কঠিন পাঠ।
মে-পুত্র
তারপর আমাকে নাও…
শক্ত কবজিতে ভেঙে দিতে পারি ইমারত,
হাতুড়ি-শাবলে নির্মূল করি
নির্মিত নির্মাণ।
তারপর আমাকে নাও…
শক্ত হাতে তুলে নিতে পারি মিছিলের ঝাণ্ডা,
চোয়ালে চোয়ালে তুলতে পারি সলতে ও স্লোগান;
দৃঢ় ঐক্যের মহামন্ত্রে
চুরমার করি সব সামাজিক ধ্বংসস্তূপ।
মে-র মন্ত্রে দীক্ষিত আমি,
আমি মে-র গর্বিত সন্তান।